সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশের নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির সিটিতে শুরু, ইউপিতে শেষ হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন জগন্নাথপুরে অগ্নিকান্ডে ৫টি ঘর ভস্মিভূত জগন্নাথপুরে সড়কের ব্লক নির্মাণে নিম্মমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না বাঁধের কাজ সময় বাড়াতে চিঠি প্রস্তুত করছে পাউবো ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করলে যেন তা ইতিবাচকভাবে নেওয়া হয়- কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এমপি কামরুল এবার স্থানীয় সরকারে ভোটযুদ্ধ ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকলেন রাষ্ট্রপতি ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে এমপি কামরুজ্জামান কামরুল হাওরের বাঁধে ‘ঘুষের খেলা’ দিরাইসহ ১৩ উপজেলায় চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, উদ্বোধন ১০ মার্চ কামরুজ্জামান কামরুল নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় প্রতিচ্ছবি বাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসক, চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা বিজ্ঞাপন: বেতগঞ্জ বাজারে ওএমএস ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি একাধিক ক্লোজারের গোড়ায় ভাঙন, অরক্ষিত হাওর সুনামগঞ্জকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করা হবে ৭৪ শতাংশ কাজ সম্পন্নের দাবি পাউবো’র মহান শহীদ দিবস পালিত সত্যশব্দের মিছিল, কবিতাই হলো স্লোগান অবিনাশী চেতনার মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ
মাতৃভাষা রক্ষায় পৃথক পাঠ্যপুস্তক ও চর্চা কেন্দ্রের দাবি

বিলুপ্তির পথে সুনামগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা

  • আপলোড সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
বিলুপ্তির পথে সুনামগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা
শহীদনূর আহমেদ ::
চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের অভাবে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মাতৃভাষা বিলুপ্তির পথে। পরিবারকেন্দ্রিক সীমিত ব্যবহারের বাইরে এসব ভাষার চর্চা না থাকায় নতুন প্রজন্ম ক্রমেই নিজস্ব ভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মাতৃভাষা রক্ষায় পৃথক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন আদিবাসী নেতৃবৃন্দ। জানা গেছে, সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী ছাতক, দোয়ারাবাজার, সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। এসব এলাকার খাসিয়া, হাজং, গারো, চাকমা, বানাই, মনিপুরি প্রভৃতি সম্প্রদায়ের প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি। তবে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং মাতৃভাষা শিক্ষার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকায় এসব ভাষা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে প্রবীণরা এখনো নিজেদের ভাষায় কথা বললেও নতুন প্রজন্মের অনেকেই মাতৃভাষায় কথা বলতে পারে না। ভাষা শেখার জন্য কোনো চর্চা কেন্দ্র বা পাঠ্যপুস্তক না থাকায় শিশুরা বিদ্যালয়ে এবং সামাজিক পরিসরে বাংলা ভাষার ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আদিবাসী শিক্ষার্থীরা জানান, পরিবার ছাড়া অন্য কোথাও মাতৃভাষায় কথা বলার সুযোগ নেই। অনেক সময় প্রকাশ্যে মাতৃভাষায় কথা বললে উপহাস ও কটূক্তির শিকার হতে হয়। ফলে তারা নিজেদের ভাষা ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করে। এতে ধীরে ধীরে ভাষার শব্দভা-ার ও ব্যবহার হারিয়ে যাচ্ছে। আদিবাসী শিক্ষকরা বলেন, বিদ্যালয়ের পাঠ্যতালিকায় আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষা বিষয়ক কোনো বই নেই। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় অন্তত একটি পাঠ্যপুস্তক অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে এবং ভাষা সংরক্ষণ সহজ হবে। তাহিরপুর উপজেলার আদিবাসী নেত্রী ডনবকমন নংউড়া বলেন, পাহাড় ও সমতলে বসবাসরত প্রতিটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। কিন্তু ভাষা শেখার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকায় তা পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বয়োজ্যেষ্ঠরা মারা গেলে ভাষার অনেক শব্দ ও ব্যবহার চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক স¤পাদক এন্ড্রো সলোমার বলেন, চর্চার অভাবে আমাদের অনেক মাতৃভাষা বিলুপ্তির পথে। ভাষা সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা পাঠ্যপুস্তকে আদিবাসী ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একটি জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব টিকে থাকে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সুনামগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বহু প্রাচীন মাতৃভাষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কেবল ইতিহাস হয়ে থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না বাঁধের কাজ সময় বাড়াতে চিঠি প্রস্তুত করছে পাউবো

নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না বাঁধের কাজ সময় বাড়াতে চিঠি প্রস্তুত করছে পাউবো